ফ্রি অস্থায়ী ইমেইল: নিবন্ধন ছাড়াই এক সেকেন্ডেই ঠিকানা
পাতা খোলামাত্রই একটি সচল ঠিকানা পেয়ে যাবেন। যেকোনো সাইটে সেটি দিন, কোড আসবে এখানেই, আর সময় ফুরোলে ঠিকানা ও তার বার্তা একসঙ্গে মুছে যাবে।
আপনার সাময়িক ইমেইল তৈরি করুন
নিজের পছন্দের নাম বাছুন বা একটি এলোমেলো নাম নিন
অস্থায়ী ইমেইল কেন দরকার হয়
একটা পিডিএফ নামাতে গিয়ে দেখলেন, ফাইলটার দিকে হাত বাড়ানোর আগেই সাইট আপনার ইমেইল ঠিকানা চাইছে। দামের তালিকা দেখতে ফর্ম, ছাড়ের কুপন পেতে ফর্ম, এমনকি একটা লেখা শেষ পর্যন্ত পড়তে চাইলেও ফর্ম। ঠিকানাটা একবার লিখে জমা দিয়ে ফেললে সেটি আর আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। কোন তালিকায় গিয়ে বসল, কে সেটি কার কাছে বিক্রি করল, আপনি জানতেও পারবেন না। ফল যা হওয়ার তা-ই হয়: বছর ঘুরে যায়, আপনি ওই সাইটের কথা ভুলেও গেছেন, অথচ তাদের আর তাদের পরিচিতদের বিজ্ঞাপন তখনো আপনার ইনবক্সে জমছে। দরকারি চিঠিটা খুঁজে বের করতেই দিনে কয়েকবার আবর্জনা সরাতে হয়।
অস্থায়ী ইমেইল এই চক্রটা একেবারে গোড়াতেই থামিয়ে দেয়। এটি সত্যিকারের একটি ঠিকানা, তৈরি হতে এক সেকেন্ড লাগে, আর এর জন্য নাম, পাসওয়ার্ড বা ফোন নম্বর কিছুই দিতে হয় না। আপনার নিয়মিত ইনবক্স যেভাবে যাচাইয়ের কোড আর নিশ্চিতকরণের লিংক পায়, এটিও ঠিক সেভাবেই পায়। পার্থক্য একটাই: ঠিকানাটি আপনার পরিচয়ের সঙ্গে বাঁধা নয়। সাইটটি একটি কার্যকর ঠিকানা পায়, আপনি যেটার জন্য এসেছিলেন সেটা হাতে পান, তারপর ঘড়ি ফুরোলে ঠিকানা আর তার ভেতরের সব বার্তা একসঙ্গে মুছে যায়। আপনার পিছু নেওয়ার মতো কিছু আর পড়ে থাকে না।
এটি কীভাবে কাজ করে
পাতাটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কোনো একটি ডোমেইনে আপনার জন্য আলাদা একটি ঠিকানা তৈরি হয়ে যায়। এটি দেখানোর জন্য বানানো কোনো নাম নয়: প্রথম মুহূর্ত থেকেই ঠিকানাটি আমাদের মেইল সার্ভারে নিবন্ধিত থাকে, তাই পৃথিবীর যে প্রান্ত থেকেই কেউ ওই ঠিকানায় চিঠি পাঠান, সেটি আর দশটা ইনবক্সে যেভাবে পৌঁছায় ঠিক সেভাবেই আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়। বার্তা আসামাত্র আপনার সামনের ইনবক্সে ভেসে ওঠে, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই, পাতা রিফ্রেশ করা বা বারবার ফিরে গিয়ে দেখার দরকার হয় না।
এটি চালু রাখতে আপনার কাছ থেকে কিছুই চাওয়া হয় না: অ্যাকাউন্ট না, যাচাই না, কোনো অনুমতিও না। ঠিকানার আয়ু কতটুকু হবে, ১০ মিনিট নাকি পুরো দুই ঘণ্টা, সেটিও আপনি নিজে ঠিক করেন। একটা কথা গোড়াতেই জেনে রাখা ভালো, এই ঠিকানা কেবল চিঠি নেয়, পাঠায় না, এবং সেটি ইচ্ছাকৃত। ঠিকানাটি যতক্ষণ সচল, ততক্ষণ সেটি কেবল আপনার সেশনের দখলে, অন্য কেউ একই ঠিকানা বানিয়ে ওই ইনবক্সে উঁকি দিতে পারে না। আর সময় ফুরোলে ঠিকানা এবং তার সব বার্তা একসঙ্গে মুছে যায়, আলাদা করে কিছু পরিষ্কার করতে হয় না।
অস্থায়ী ইমেইল, সাময়িক ইমেইল, ডিসপোজেবল ইমেইল: তফাত কোথায়
বাংলায় জিনিসটার নাম একটা নয়। সার্চ বাক্সে বেশির ভাগ মানুষ লেখেন “অস্থায়ী ইমেইল”, চালু নামগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি টাইপ হয়। একটু আনুষ্ঠানিক বা লিখিত ভাষায় চোখে পড়ে “সাময়িক ইমেইল”, আর যাঁরা প্রযুক্তির ইংরেজি শব্দে অভ্যস্ত তাঁরা সরাসরি বলেন “ডিসপোজেবল ইমেইল”। তিনটির অর্থ আসলে এক: এমন ঠিকানা, যা একবারের কাজে লাগিয়ে ফেলে রাখা হয়। বর্ণনার দিক থেকে অস্থায়ী বা সাময়িক শব্দটাই বেশি নিখুঁত, কারণ এখানে মূল ব্যাপারটা সময়। ডিসপোজেবল বললে ফেলে দেওয়ার দিকটা সামনে চলে আসে, অথচ ঠিকানাটি আপনাকে ফেলে দিতে হয় না, মেয়াদ শেষে সেটি নিজেই চলে যায়।
এর সঙ্গে একটা ভুল ধারণাও চলে আসে। অনেকে একে “ভুয়া ইমেইল” বা “নকল মেইল” বলে ফেলেন, কিন্তু এখানে যে ঠিকানাটি পাচ্ছেন সেটি ভুয়া নয়। এর অস্তিত্ব সত্যি এবং চিঠি নেওয়ার ক্ষমতাও সত্যি, আর ঠিক এই কারণেই এটি কাজে লাগে। ভুয়া হলে তো যাচাইয়ের কোডটাই কোনোদিন আপনার কাছে পৌঁছাত না। নিজের মাথা থেকে বানানো ঠিকানা এর উল্টো: চেনা কোনো ডোমেইনের আগে যা খুশি একটা নাম বসিয়ে দিলে ওই ঠিকানায় কিছুই আসে না, আর বেশির ভাগ সাইট ফর্ম জমা দেওয়ার মুহূর্তেই সেটি ফিরিয়ে দেয়। পার্থক্যটা এক কথায় বললে, এখানকার ঠিকানার আয়ু কম, কিন্তু সেটি সত্যিকারের চলতি ঠিকানা।
কখন ব্যবহার করবেন, কখন করবেন না
সাইটটির সঙ্গে আপনার সম্পর্ক যখন কয়েক মিনিটের, তখনই এটি সবচেয়ে কাজে লাগে। নিবন্ধনের দেয়ালের ওপাশে আটকে রাখা একটা ফাইল নামানো, কেনার আগে কোনো টুল কয়েক দিন পরখ করে দেখা, সাবস্ক্রিপশন চাওয়া কোনো লেখা পড়া, একটিমাত্র প্রশ্ন করার জন্য কোনো ফোরামে যোগ দেওয়া, কিংবা একবারের জন্য পাঠানো একটা কোড হাতে নেওয়া। এসব ক্ষেত্রে আসল ঠিকানা দিয়ে আপনার লাভ নেই, কারণ কাজটা শেষ হলে ওই সাইটের কাছে আপনার আর কিছু পাওয়ার থাকে না, অথচ ঠিকানাটা তাদের খাতায় থেকে যায় এবং সেখান থেকেই বছরের পর বছর চিঠি আসতে থাকে।
আবার এমন জায়গাও আছে যেখানে এটি ব্যবহার করা রীতিমতো ঝুঁকি। ব্যাংক আর মোবাইল ওয়ালেট, অফিসের কাজের অ্যাকাউন্ট, নিজের দোকান বা প্ল্যাটফর্ম, আর যেকোনো সেবা যেখানে একদিন ইমেইলে পাসওয়ার্ড রিসেট করার দরকার পড়তে পারে, এসবের জন্য এটি নয়। অস্থায়ী ঠিকানা মুছে যাওয়ার পর ওই অ্যাকাউন্টে ফেরার পথটাও মুছে যায়, আর তখন সাহায্য চেয়ে চিঠি পাওয়ার মতো কোনো ইনবক্সই থাকে না। নিয়মটা সহজ: এক মাস পরেও যদি অ্যাকাউন্টটা লাগে, তাহলে আসল ঠিকানাটাই দিন।
509 আলাদা কোথায়
বেশির ভাগ অস্থায়ী ইমেইল সেবা আপনাকে একটা এলোমেলো ঠিকানা আর বাঁধাধরা মেয়াদ ধরিয়ে দিয়েই দায়িত্ব শেষ করে। এখানে কাজে লাগার মতো তিনটি পার্থক্য আছে:
- মেয়াদ আপনার হাতে: ১০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বেছে নিন, আর কোড আসতে দেরি হলে নিবন্ধনের মাঝপথেই সময় বাড়িয়ে নিন, ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগে ঠিকানাটি হারিয়ে যায় না।
- নাম আপনার পছন্দমতো: @ চিহ্নের আগে যা খুশি লিখে নিন, যা দেওয়া হলো সেটাই মেনে নেওয়ার দরকার নেই, কোনো সাইট এলোমেলো দেখতে ঠিকানা ফিরিয়ে দিলে এটি বিশেষভাবে কাজে আসে।
- স্থায়ী ঠিকানাও রাখা যায়: ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলে এমন একটি ঠিকানা সংরক্ষণ করুন যার মেয়াদ কখনো শেষ হয় না, প্রতিবার নতুন ঠিকানা বানানোর বদলে নিবন্ধনের জন্য সেটিকেই বাড়তি ইমেইল হিসেবে ব্যবহার করুন।
পুরো সেবাটি বিনামূল্যে, আর কতগুলো ঠিকানা বানাবেন তার কোনো সীমা নেই।
প্রিমিয়াম সদস্যরা এর সঙ্গে নিজস্ব API কী-ও পান: একটি খুব সহজ ও স্মার্ট API-এর মাধ্যমে, সাইট না খুলেই সরাসরি নিজের কোড থেকে ঠিকানা রিজার্ভ করেন আর আসা মেসেজগুলো পড়েন।
সাধারণ প্রশ্ন
অস্থায়ী ইমেইল কী?
এটি সত্যিকারের একটি ইমেইল ঠিকানা, যা আপনার বেছে নেওয়া সময় পর্যন্ত কাজ করে এবং তারপর ভেতরের বার্তাসহ মুছে যায়। আর দশটা ইনবক্সের মতোই এটি যাচাইয়ের কোড আর নিশ্চিতকরণের লিংক নেয়, কিন্তু এর জন্য নাম, পাসওয়ার্ড বা নিবন্ধন কিছুই লাগে না।
সেবাটি কি সত্যিই ফ্রি?
হ্যাঁ, কোনো খরচ নেই এবং কতগুলো ঠিকানা বানাবেন তারও সীমা নেই। ফ্রি অ্যাকাউন্ট বাড়তি একটাই সুবিধা দেয়: এমন একটি স্থায়ী ঠিকানা সংরক্ষণ করা, যার মেয়াদ কখনো শেষ হয় না।
একটি ঠিকানা কতক্ষণ টিকে থাকে?
১০ মিনিট থেকে দুই ঘণ্টা, সময়টা আপনি নিজেই ঠিক করেন। কোড আসতে দেরি হলে নিবন্ধনের মাঝপথেই মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে পারেন। আর বারবার নতুন ঠিকানা বানাতে না চাইলে ফ্রি অ্যাকাউন্ট খুলে একটি স্থায়ী ঠিকানা সংরক্ষণ করে রাখুন, সেটির মেয়াদ কখনো ফুরোয় না।
অস্থায়ী ইমেইল কি নিরাপদ?
ঠিকানাটি সচল থাকা পর্যন্ত সেটি কেবল আপনার, আর আমরা আপনার কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চাই না। তবে যে অ্যাকাউন্ট পরে ফিরে পাওয়ার দরকার হতে পারে, সেখানে এই ঠিকানা দেবেন না: পাসওয়ার্ড রিসেটের চিঠি এমন ইনবক্সে আসতে হয় যেটি টিকে থাকে।
কীভাবে ব্যবহার করব?
পাতার ওপরে দেখানো ঠিকানাটি এক ক্লিকে কপি করুন, যে সাইটে নিবন্ধন করছেন সেখানকার ইমেইল ঘরে সেটি বসান, তারপর এই পাতায় ফিরে আসুন। বার্তা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দেখা যাবে, পাতা রিফ্রেশ করার দরকার নেই।
যাচাইয়ের মেইল আসছে না কেন?
প্রথমে এক থেকে তিন মিনিট অপেক্ষা করুন, কিছু সাইট মেইল সারিতে রেখে দেরিতে পাঠায়। এরপর দেখে নিন ঠিকানাটি পুরোপুরি কপি হয়েছে কি না, শেষে বাড়তি ফাঁকা জায়গা রয়ে যায়নি তো। ঘড়ির দিকেও একবার তাকান, অপেক্ষা করতে করতে মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে বার্তা আর ধরা পড়ে না, সময় ফুরিয়ে আসছে মনে হলে মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। আর সাইটটি যদি ঠিকানাটি জমা নেওয়ার সময়ই ফিরিয়ে দিয়ে থাকে, তাহলে @ চিহ্নের আগে নিজের পছন্দের একটি নাম লিখুন কিংবা তালিকা থেকে অন্য একটি ডোমেইন বেছে নিয়ে আবার চেষ্টা করুন।
বার্তার উত্তর দেওয়া বা মেইল পাঠানো যায়?
না, অস্থায়ী ঠিকানাগুলো শুধু বার্তা নেয়, পাঠায় না। এটি ইচ্ছাকৃত: এই সেবা যাচাইয়ের কোড আর নিশ্চিতকরণের লিংক তুলে নেওয়ার জন্য, চিঠি চালাচালির ক্ষেত্রে আসল ইনবক্সের বিকল্প নয়। পাঠানোর দরকার হলে নিজের ইমেইলটিই ব্যবহার করুন।
আমার বার্তা কি অন্য কেউ পড়তে পারে?
না। ঠিকানাটি সচল থাকা পর্যন্ত সেটি আপনার সেশনের দখলে থাকে, অন্য কেউ একই ঠিকানা বানিয়ে ওই ইনবক্সে পৌঁছাতে পারে না। তবু গোপন তথ্য বা ব্যক্তিগত কাগজপত্র এই ঠিকানায় আনাবেন না, এটি বানানো হয়েছে এক-দুবারের নিবন্ধনের জন্য, স্পর্শকাতর তথ্যের জন্য নয়।
সব ওয়েবসাইট কি অস্থায়ী ইমেইল নেয়?
বেশির ভাগই নেয়, তবে কিছু সেবা পরিচিত ডিসপোজেবল ইমেইল ডোমেইন আটকে রাখে। আমাদের একাধিক ডোমেইন আছে এবং তালিকা থেকে আপনি সেগুলোর মধ্যে বদল করতে পারেন, একটি ফিরিয়ে দিলে আরেকটি দিয়ে দেখুন। আর যে সেবাটি লম্বা সময় ধরে ব্যবহার করার ইচ্ছা, সেখানে শুরু থেকেই আসল ঠিকানা দেওয়াই ভালো।